মালয়েশিয়ায় নভেম্বরে পাম অয়েলের মজুদ সাড়ে ছয় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। রফতানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি এ সময় রেকর্ড উৎপাদন মজুদ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ও বিশ্লেষকের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়া। জরিপ অনুযায়ী, নভেম্বরে দেশটিতে পাম অয়েলের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ লাখ ৬০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১৯ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
মালয়েশিয়ায় নভেম্বরে অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) উৎপাদন ১৯ লাখ ৮০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যা এ পর্যন্ত বিগত বছরগুলোর যেকোনো নভেম্বরের তুলনায় সর্বোচ্চ উৎপাদন। যদিও এটি আগের মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ কম।
খাতসংশ্লিষ্টরা আরো জানান, অনুকূল আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট কমে আসা এবং নতুন উচ্চ উৎপাদনশীল বাগানের কারণে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন ২০ লাখ টনের কাছাকাছি থাকছে। চলতি বছর বার্ষিক অপরিশোধিত পাম অয়েল উৎপাদন প্রথমবারের মতো দুই কোটি টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে নভেম্বরে পাম অয়েল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের রফতানি ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টনে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। সেলাঙ্গর-ভিত্তিক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পেলিন্ডুং বেস্টারির পরিচালক পরামালিঙ্গম সুপ্রমানিয়াম বলেন, ‘নভেম্বরে মজুদ প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। তবে রফতানি কমে যাওয়ায় সমাপনী মজুদ বেড়ে যেতে পারে।’
ফিউচার মার্কেটে গতকাল মালয়েশীয় পাম অয়েলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। অন্যান্য বাজারে ভোজ্যতেলটির দরপতন ও মজুদ বাড়ার প্রত্যাশা দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে গতকাল পাম অয়েলের দাম ৫১ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ১০২ রিঙ্গিতে (৯৯৬ ডলার ৮৪ সেন্ট)।